সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পণ্ডশ্রম

– শামসুর রাহমান


এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে,
কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে।
কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কি-হে বল?
কানের শোকে আজকে সবাই মিটিং করি চল।
যাচ্ছে, গেল সবই গেল, জাত মেরেছে চিলে,
পাঁজি চিলের ভূত ছাড়াব লাথি-জুতো কিলে।
সুধী সমাজ! শুনুন বলি, এই রেখেছি বাজি,
যে-জন সাধের কান নিয়েছে জান নেব তার আজই।
মিটিং হল ফিটিং হল, কান মেলে না তবু,
ডানে-বাঁয়ে ছুটে বেড়াই মেলান যদি প্রভু!
ছুটতে দেখে ছোট ছেলে বলল, কেন মিছে
কানের খোঁজে মরছ ঘুরে সোনার চিলের পিছে?
নেইকো খালে, নেইকো বিলে, নেইকো মাঠে গাছে;
কান যেখানে ছিল আগে সেখানটাতেই আছে।
ঠিক বলেছে, চিল তবে কি নয়কো কানের যম?
বৃথাই মাথার ঘাম ফেলেছি, পণ্ড হল শ্রম।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আম পাতা জোড়া-জোড়া

আম পাতা জোড়া-জোড়া, মারবো চাবুক চড়বো ঘোড়া। ওরে বুবু সরে দাঁড়া, আসছে আমার পাগলা ঘোড়া। পাগলা ঘোড়া ক্ষেপেছে, চাবুক ছুঁড়ে মেরেছে।

কানা বগীর ছা

-খান মুহাম্মদ মইনুদ্দীন ঐ দেখা যায় তাল গাছ ঐ আমাদের গাঁ। ঐ খানেতে বাস করে কানা বগীর ছা। ও বগী তুই খাস কি? পানতা ভাত চাস কি? পানতা আমি খাই না পুঁটি মাছ পাই না। একটা যদি পাই অমনি ধরে গাপুস গুপুস খাই।
আমাদের গ্রাম - বন্দে আলী মিয়া আমাদের ছোট গায়ে ছোট ছোট ঘর থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেউ পর। পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই হিংসা মারামারি কভু নাহি করি পিতা মাতা গুরুজন সাদা মোরা ভরি। আমাদের ছোট গারাম মায়ের সমান আলো দিয়ে বায়ু দিয়ে বাচায় যে পান। মাঠ ভরা ধান আর জল ভরা দিঘি চাঁদের আলো লেগে করে ঝিকি মিকি। আম গাছ জাম গাছ বাঁশ ঝার যেন মিলেমিশে আছে ওরা আততিয় হেন। সকালে সোনার রবি পুব দিকে উঠে পাখি ডাকে বায়ু আসে নানা ফুল ফুটে।

কিছু কথা

কিছু বাংলা ছড়া ও কবিতা কে এক জায়গায় রাখার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। এ ব্লগে পোষ্ট করা সবগুলো ছড়া ও কবিতা সংগৃহীত।